
অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন ব্যবহার করেই বিমানের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করা সম্ভব বলে জানিয়েছে জার্মানির প্রযুক্তি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এন-রানসের বিশেষজ্ঞ হুগো টেসো। সম্প্রতি তিনিনেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত
ফলাফল বিমানচলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরকে যথেষ্ট চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
তিনি প্রায় তিন বছর ধরে একজন বাণিজ্যিক বিমানচালককে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণার জন্য তারা পুরনো একটি বিমানের কম্পিউটার সিস্টেমই কিনে নিয়ে। এর পর এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো খুঁজে বের করেন।
প্লেনএসপ্লয়েট নামের একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের সঙ্গে টেসোর হ্যাকিং কোডগুলো মিলিয়ে বিমানের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন গবেষকরা। টেসোর ব্যবহৃত কোডগুলোর নাম দেয়া হয়েছে সিমন। সিমনের সাহায্যে বৈমানিকের ডিসপ্লে বোর্ডটিও দেখতে সক্ষম হন তারা। হ্যাক হওয়া বিমানটির গতি ও চলার পথ অ্যান্ড্রয়েডফোনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করেও দেখানো হয়।
সেকেন্ডে কমপক্ষে ১ মেগাবাইট গতির একটি সংযোগের মাধ্যমে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ রক্ষিত হয়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসে বিমানের অবস্থান ও অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার এ ব্যবস্থাটিতে বিঘ্ন ঘটানো কিংবা বন্ধ করে দেয়ার কাজটি খুব সহজেই করা সম্ভব বলে জানান টেসো। নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও হ্যাক করতে গিয়ে তারা প্রথমে অটোমেটিক ডিপেনডেন্ট সার্ভিলেন্স-ব্রডকাস্ট (এডিএস-বি) ব্যবস্থাটি হ্যাক করেন। কন্ট্রোলরুমে ভুল সংকেত পাঠানোও সম্ভব বলে তিনি জানান।
তাছাড়া মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রকদের দেয়া রুট পরিবর্তন করাও সম্ভব বলেও তিনি জানান। স্যামসাংয়ের একটি গ্যালাক্সি হ্যান্ডসেট দিয়ে এয়ারক্রাফটস কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম (এসিএআরএস) হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তা করে দেখান টেসো।
এসিআরএসের মাধ্যমে ভূমি থেকে আসা কোনো বার্তা যাচাই করার কোনো সুযোগ পাইলটের থাকে না। তাই এক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা এলে পাইলট তা মেনে নেন। মার্কিন ও ইউরোপীয় বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন